ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: নদীর জল নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা থেকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র—দুই দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর জল বণ্টন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। আর এই সমস্ত সমস্যার সমাধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হল ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট রিভার কমিশন (JRC)। কিন্তু কী এই কমিশন? কীভাবেই বা কাজ করে এটি?
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর দুই দেশ অভিন্ন নদীগুলির জলসম্পদ যৌথভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। সেই সূত্রেই ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জয়েন্ট রিভার কমিশন। দুই দেশের জলসম্পদ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা এই কমিশনের মাধ্যমে নদীর জল বণ্টন, বন্যার পূর্বাভাস, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এই কমিশনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে। ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। মূলত শুষ্ক মরশুমে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জল কীভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগ হবে, তা এই চুক্তিতে নির্ধারিত রয়েছে।
অন্যদিকে, তিস্তার জলবণ্টন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষত উত্তরবঙ্গের কৃষি, সেচ এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গে এই নদীর জল সরাসরি যুক্ত।
সম্প্রতি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলির সমস্যা সমাধানে জয়েন্ট রিভার কমিশনই দুই দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামোগত আলোচনার মাধ্যম।
সব মিলিয়ে, ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎও অনেকাংশে নির্ভর করছে এই নদী সহযোগিতার উপর।








