ট্রাম্পের ছায়া ছেড়ে ‘নিজস্ব পথে’ জেডি ভ্যান্স? ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মন্ত্রে নতুন চাল!

আমেরিকা ফার্স্ট নীতি নিয়ে রিপাবলিকান সেনেটর জে.ডি. ভ্যান্সের নতুন কৌশল। দলের মধ্যে জোর আলোচনা, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড়সড় বিপর্যয়ের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটনে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরতে চাইছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের উত্তরাধিকার দাবি করেও তাঁর প্রশাসনের ব্যর্থতা থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ভ্যান্সের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ভ্যান্স। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই নির্বাচনে দলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালে ট্রাম্প ও তাঁকে সমর্থন করা বহু ভোটার এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। এর পিছনে চারটি বিষয় কাজ করেছে—ইরান যুদ্ধের অবসান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ফিরে যাওয়া এবং ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা।

তবে ভ্যান্সের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, অভিবাসন নীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। ফলে তাঁর এই অবস্থানকে ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পাশাপাশি MAGA আন্দোলনের সমর্থকদের নিজের দিকে টানার কৌশল হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস-সহ একাধিক নেতার নাম সামনে আসছে। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বের মুখ হিসেবে আলোচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচনী বিপর্যয় শুধু রিপাবলিকানদের সংসদীয় শক্তিকেই ধাক্কা দেয়নি, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্বের লড়াইকেও সামনে এনে দিয়েছে।