ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে কিংবা বিমানের বোর্ডিং পাস হাতে পেয়ে কখনও কি ভেবেছেন, সেখানে সময় লেখা থাকে ১৮:৪৫, ২১:৩০ কিংবা ০৫:১৫-এর মতো সংখ্যায় কেন? অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময় বলতে সাধারণত সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা রাতের ১২ ঘণ্টার হিসাবই ব্যবহার করি। কিন্তু রেল ও বিমান পরিষেবায় কেন এত গুরুত্ব ২৪ ঘণ্টার ঘড়িকে? এর পিছনে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সময়ের নির্ভুলতা এবং পরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি।
আসলে ১২ ঘণ্টার ঘড়িতে সকাল ও রাতের সময় আলাদা করে বোঝাতে AM এবং PM ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে মধ্যরাত কিংবা ভোরের ট্রেনের ক্ষেত্রে এই হিসাব থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ধরুন, রাত ১২টা এবং দুপুর ১২টার সময় উল্লেখ করতে গিয়ে সামান্য ভুল হলেই যাত্রীর পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে কিন্তু প্রতিটি সময়ের জন্য রয়েছে আলাদা সংখ্যা। এখানে দিনের শুরু ০০:০০ থেকে, আর শেষ ২৩:৫৯-এ।
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটরসের (IATO) সভাপতি রবি গোসাঁইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ভুলতা, মানসম্মত সময়ের ব্যবহার এবং পরিবহণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রেল ও বিমান পরিষেবায় এই পদ্ধতি চালু হয়েছে।
এর পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক কারণও। উনিশ শতকে রেলপথের বিস্তারের সময় বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ট্রেন চলাচলে সমস্যা তৈরি করত। তাই সময়ের একক মান নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এক্ষেত্রে, বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক উড়ানে একাধিক সময় অঞ্চল পেরোতে হয়। পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে সময় নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয়, সেজন্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে UTC বা কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইমও ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি শুধুই সময় দেখানোর আলাদা পদ্ধতি নয়, বরং নিরাপদ ও নির্ভুল যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।








