জেলখানায় কাটান রাত! একসময়ের অপরাধীদের শাস্তিক্ষেত্র হতে পারে আপনার শখের গন্তব্য

ওয়েবসাইটে ঢুকতে সমস্যা? সার্ভার ত্রুটির কারণে বারবার আটকে যাচ্ছে সংযোগ। জেনে নিন বিস্তারিত এবং সমাধানের উপায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: একসময় এই জায়গাগুলির পরিচয় ছিল বন্দিশালা হিসেবে। উঁচু প্রাচীর, লোহার গরাদ, ছোট ছোট অন্ধকার কুঠুরি আর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এখানেই বন্দি থাকতেন অপরাধীরা। অথচ সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে ছবিটা! আজ সেই জেলখানাগুলিরই কোনওটি পরিণত হয়েছে পাঁচতারা হোটেলে, কোনওটি আবার বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই কারাগারগুলিতে এখন চাইলে আপনিও কাটাতে পারেন ছুটি!

বিশ্বের এমনই পাঁচটি ঐতিহাসিক জেলখানার হদিশ দিয়েছে আমাদের সূত্র:

১. হোটেল কাটাজানোক্কা, ফিনল্যান্ড: হেলসিঙ্কির এই লাল ইটের ভবনের ইতিহাস ১৮৩৭ সালের। একসময় এটি ছিল স্থানীয় জেলখানা। ২০০২ সালে কারাগার বন্ধ হওয়ার পর ২০০৭ সালে হোটেল হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করে। পুরনো স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এখনও অক্ষত।

২. দ্য লিবার্টি হোটেল, আমেরিকা: বোস্টনের প্রাক্তন চার্লস স্ট্রিট জেল ১৮৫১ সালে তৈরি হয়েছিল। ১৯৯০ সালে জেল বন্ধ হয়। ২০০৭ সালে সেটিই বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরিত হয়।

৩. হেট অ্যারেস্টহুইস, নেদারল্যান্ডস: একসময়কার এই কারাগার এখন পাঁচতারা হোটেল। পুরনো সেলের আদলে তৈরি ঘর থেকে আধুনিক বিলাসবহুল স্যুইট—সবই রয়েছে এখানে।

৪. মালমেইসন অক্সফোর্ড, ইংল্যান্ড: অক্সফোর্ডের ঐতিহাসিক দুর্গের মধ্যে অবস্থিত এই হোটেলটি একসময় ছিল এইচএম প্রিজন অক্সফোর্ড। ১৯৯৬ সালে জেল বন্ধ হওয়ার পর এর নতুন পরিচয় তৈরি হয়।

৫. ফোর সিজনস হোটেল ইস্তানবুল, তুরস্ক: ১৯১৮-১৯১৯ সালের মধ্যে নির্মিত এই ভবন একসময় বিচারাধীন বন্দিদের কারাগার ছিল। ১৯৯৬ সালে হোটেলে রূপান্তরিত হওয়ার পর ২০২২ সালে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রূপ পায়।

অর্থাৎ, ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়কে মুছে না ফেলেই তাকে পর্যটনের আকর্ষণে পরিণত করেছে এই পাঁচ হোটেল। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে তাই এখানে থাকা নিছক হোটেলে রাত কাটানো নয়, বরং ইতিহাসকে কাছ থেকে অনুভব করার এক অভিনব অভিজ্ঞতা!