আমেরিকার নারীবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে ভারতের অবদান! গ্লোরিয়া স্টেইনেমের জীবনে কি ছিল গান্ধীর প্রভাব?

গ্লোরিয়া স্টেইনম গান্ধীজির আদর্শে বিশ্বজুড়ে নারী আন্দোলনকে এক নতুন রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম নারী অধিকারের লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: আমেরিকার নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ তিনি। নারীস্বাধীনতা, প্রজনন অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সরব ছিলেন। কিন্তু জানেন কি, তাঁর নারীবাদী চিন্তাভাবনা ও আন্দোলন গড়ে তোলার পদ্ধতির পিছনে রয়েছে ভারতের গভীর প্রভাব? তিনি গ্লোরিয়া স্টেইনেম। ২২ বছর বয়সে ভারতে এসেছিলেন এক তরুণী হিসেবে। আর এই দেশেই কাটানো সময় তাঁর জীবনের চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যতের আন্দোলনকে নতুন দিশা দিয়েছিল।

১৯৫৭ সালে চেস্টার বোলস ফেলোশিপ নিয়ে ভারতে আসেন স্টেইনেম। দিল্লির মিরান্ডা হাউসে থাকাকালীন ভারতীয় ছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে উঠে আসত বিয়ে, মাতৃত্ব, গর্ভনিরোধ, সংসার এবং নারীর স্বাধীনতার মতো বিষয়। ভারতীয় নারীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার পিছনেও রয়েছে বৃহত্তর সামাজিক বৈষম্য।

তবে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল গ্রামাঞ্চলে। বিনোবা ভাবের ভূমিদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরেছিলেন তিনি। জাতপাতের সংঘাত, হিংসা এবং সামাজিক বিভাজনের পরিস্থিতিতে মানুষের কথা শুনেছিলেন কাছ থেকে। সেখানেই উপলব্ধি করেন, মানুষের হয়ে কথা বলার আগে তাঁদের কথা শোনা জরুরি। আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক আলোচনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তীকালে আমেরিকায় ফিরে নারী অধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। ১৯৭২ সালে সহ-প্রতিষ্ঠা করেন নারীবাদী পত্রিকা ‘Ms.’। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, প্রজনন অধিকার এবং নারীর সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্নকে পৌঁছে দেন মূলস্রোতের আলোচনায়।

ভারতের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নিছক ভ্রমণের স্মৃতি ছিল না। বরং মানুষের কথা শোনা, একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তৃণমূল স্তর থেকে পরিবর্তন আনার শিক্ষা হয়ে উঠেছিল তাঁর আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি।

স্টেইনেমের ভারত-যোগ পরবর্তী জীবনেও অটুট ছিল। নারী ও শিশু পাচার বন্ধে কাজ করা ভারতীয় সংগঠন ‘আপনে আপ উইমেন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রুচিরা গুপ্তের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একজোট হওয়ার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন এই নারীবাদী নেত্রী।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৯২ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। গ্লোরিয়া স্টেইনেমের জীবন মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলনের কোনও ভৌগোলিক সীমানা নেই। কখনও কখনও একটি দেশের অভিজ্ঞতাই অন্য দেশের আন্দোলনের ইতিহাস বদলে দিতে পারে।