বলিদান নয়, জীবদয়ার বার্তা! কালীপুজোয় মায়ের নামে মুক্তি পেল ৫০টি পাঁঠা

পটাশপুরের পালপাড়া গ্রামে ৩০০ বছরের পুরনো কালীপুজোয় বলিদান প্রথা বন্ধ। মায়ের নামে ছেড়ে দেওয়া হয় ৫০টি পাঁঠা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ নভেম্বর ২০২৬: মহামারী থেকে মুক্তি পেতে মায়ের স্বপ্নাদেশেই শুরু হয়েছিল এই বিশেষ কালীপুজো। আর এই পুজোর মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মায়ের নামে ছেড়ে দেওয়া প্রায় ৫০টি পাঁঠা। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের পালপাড়া গ্রামে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী জোড়া কালীর পুজো আজও লোকবিশ্বাস ও ভক্তির এক অনন্য নিদর্শন বহন করে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন শতাব্দী আগে এই অঞ্চলে কলেরা ও বসন্তের মতো ভয়াবহ মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। সেই সময় গ্রামের মোড়ল ও প্রবীণরা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। গ্রামের শেষ প্রান্তে জোড়া কালী প্রতিষ্ঠা করে আরাধনা করলেই এই মহামারী থেকে মুক্তি মিলবে। সেই বিশ্বাস থেকেই শুরু হয় পুজো এবং আশ্চর্যজনকভাবে, পুজো শুরু হওয়ার পরেই মহামারী নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই থেকে এই পুজো পালপাড়ার মানুষের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও পবিত্র বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর মানত প্রথা। বহু বছর আগে এখানে বলি প্রথা প্রচলিত থাকলেও, গ্রামের প্রবীণদের সিদ্ধান্তে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে, কোনও ভক্তের মনস্কামনা পূরণ হলে তিনি একটি জীবন্ত পাঁঠা কিনে এনে মায়ের পায়ে নিবেদন করেন। এরপর পুরোহিত বিশেষ মন্ত্রপূত জল ছিটিয়ে সেই পাঁঠাটিকে মায়ের নামে উৎসর্গ করে মুক্ত করে দেন। এই উৎসর্গীকৃত পাঁঠাগুলিকে আর বলি দেওয়া হয় না।

বরং, সেগুলিকে মায়ের সম্পত্তি হিসেবে গ্রামেই অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এই বছরও প্রায় ৫০টি পাঁঠা মায়ের নামে মুক্ত করা হয়েছে, যা এই প্রাচীন মন্দিরের এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।