বর্গভীমার অনুমতি ছাড়া কালীপুজো নয়! ৫০০০ বছরের প্রাচীন পীঠস্থানে আজও অটুট ঐতিহ্য

তমলুকের ৫০০০ বছরের প্রাচীন পীঠস্থান মা বর্গভীমার মন্দিরে কালীপুজোয় বিশেষ আয়োজন। আজও শক্তিপূজার আগে নেওয়া হয় দেবীর অনুমতি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ নভেম্বর ২০২৬: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহর জুড়ে শক্তিপূজোর এক অমোঘ রীতি আজও প্রচলিত। যেকোনো শক্তিপূজা শুরু করার আগে এখানকার আরাধ্য দেবী মা বর্গভীমার অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। হাজার হাজার বছর ধরে এই পীঠস্থানে দেবী বর্গভীমার আরাধনা হয়ে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামেও পরিচিত। এই সুবিশাল মন্দিরটি আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে, যা এই অঞ্চলের প্রাচীনত্বের সাক্ষী।

পুরাণ মতে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পর তাঁর বাম পায়ের গোড়ালি এই স্থানে পতিত হয়েছিল, যা একান্ন পীঠের অন্যতম। মহাভারতে উল্লিখিত ময়ূর বংশীয় তাম্রধ্বজ রাজাই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বলে জনশ্রুতি রয়েছে। কথিত আছে, এক দরিদ্র ধীবরপত্নী এক কূপ থেকে জল ছিটিয়ে মৃত শোল মাছকে জ্যান্ত করে রাজ দরবারে হাজির করতেন। সেই কূপের পাশেই রাজা দেবীর উগ্রতারা রূপী মূর্তি দেখতে পান এবং সেখানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালীপুজোর সময় মা বর্গভীমাকে রাজবেশে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো করা হয়।

দেবীকে প্রতিদিন শোল মাছের ঝোল নিবেদন করা হয়। ভক্তরাও মায়ের কাছে মনস্কামনা পূরণের জন্য তাল, ওল, কচু এবং শোল মাছ নিয়ে হাজির হন। শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষজনও এই প্রাচীন মন্দিরে পুজো দিতে আসেন।