সৃজিতের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’: অতীতের আয়নায় বর্তমানের প্রতিবাদের ভাষা

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র' ছবিতে শরৎচন্দ্র ও সব্যসাচীর দ্বৈরথ। অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকারের গভীর বিশ্লেষণ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ দুর্গাপুজোর আবহে মুক্তি পেয়েই দর্শকদের মধ্যে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন এবং তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’র বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচী মল্লিককে সমান্তরালভাবে তুলে ধরে এই ছবি স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

পরিচালক অতীতের গল্পকে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন, যা নিছক ঐতিহাসিক কাহিনী না হয়ে সমসাময়িক সমাজেও প্রতিবাদের ভাষা খুঁজতে সাহায্য করে। ছবির অন্যতম আকর্ষণ টোটা রায়চৌধুরী অভিনীত শরৎচন্দ্র এবং আবির চট্টোপাধ্যায়ের সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রায়ন। একদিকে কলমকে হাতিয়ার করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরব শরৎচন্দ্র, অন্যদিকে সরাসরি সংগ্রামের পথ বেছে নেওয়া সব্যসাচী। প্রতিবাদের এই দুই ভিন্ন ধারা ছবির মূল সুর। টোটার সংযত অভিনয় লেখকের ক্ষোভ ও চিন্তাকে ফুটিয়ে তুলেছে, অন্যদিকে আবিরের আত্মবিশ্বাসী সব্যসাচী বিপ্লবী মানসিকতাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

ছবিতে ‘নায়ক’ শব্দের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতি এবং দেশপ্রেম নিয়ে তাঁর ও শরৎচন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য গল্পের গভীরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মিমি চক্রবর্তী ও দিব্যাণী মণ্ডলের চরিত্রগুলি স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরে। সৃজিতের পরিচিত সময়ের বাইরে গিয়ে গল্প বলার কৌশল এবং আবহসঙ্গীত ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে। ‘তোমারে করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ গানটির ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

যদিও কিছু ক্ষেত্রে গল্পের গতি আরও মসৃণ হতে পারত, তবুও ছবির মূল বক্তব্য অত্যন্ত শক্তিশালী। বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক ভাবনানির্ভর সিনেমার অনুরাগীদের জন্য এটি এক অবশ্য দ্রষ্টব্য ছবি, যা মনে করিয়ে দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কখনও ফুরিয়ে যায় না।