মাটির গানে আধুনিকতার ছোঁয়া: মামে খানের সুরে লোকসঙ্গীতের নতুন দিগন্ত

গায়ক মামে খান মাঙ্গানিয়ার লোকগানের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন আধুনিক ফিউশনের মাধ্যমে। জানুন তাঁর সঙ্গীত ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গায়ক মামে খান মাঙ্গানিয়ার লোকগানের ঐতিহ্যকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কালা ঘোড়া আর্ট ফেস্টিভ্যালের ‘রকস অ্যান্ড রুটস’ কনসার্টে তিনি গান গাইবেন, যেখানে তাঁর শিকড়ের সুর মিশে যাবে সমসাময়িক সঙ্গীতের সঙ্গে।

মামে খানের মতে, ফিউশন তখনই সফল যখন গানের আবেগ, সুর ও চরিত্র অক্ষুণ্ণ থাকে, কেবল অ্যারেঞ্জমেন্টে নতুনত্ব আনা হয়। মুম্বইয়ের মতো আধুনিক মঞ্চে মাঙ্গানিয়ার সঙ্গীত তুলে ধরাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এর মাধ্যমে শ্রোতারাও এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, যাঁরা হয়তো রাজস্থানে গিয়ে এই সঙ্গীত শোনার সুযোগ পাননি।

বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর চমৎকার যোগাযোগ রয়েছে। মামে খান মনে করেন, তরুণ প্রজন্ম খোলা মনের অধিকারী এবং লোকসঙ্গীতের আবেগ তাদের মন স্পর্শ করলে তারা আরও গভীরে প্রবেশ করতে চায়। তাই লোকসঙ্গীতের কাছে পৌঁছনোর নতুন পথ তৈরি করা জরুরি।

নিজের ঐতিহ্যবাহী মাঙ্গানিয়ার সঙ্গীত পরিবার থেকে এসেও তিনি আধুনিক শিল্পী হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছেন। তাঁর কাছে ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা মানে অতীতকে হুবহু অনুসরণ করা নয়, বরং সততার সঙ্গে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বলিউডে ‘লাক বাই চান্স’ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এরপর তিনি ‘মির্জ়া’, ‘সোনচিড়িয়া’, ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর মতো ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। অমিত ত্রিবেদী, শঙ্কর মহাদেবন, এআর রহমান এবং বিশাল ভরদ্বাজের মতো কিংবদন্তি সুরকারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে তিনি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছনোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখলেও, একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়াকে সঙ্গীতের চূড়ান্ত লক্ষ্য না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীতের গভীরতাকে কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপে বোঝানো সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত।