ব্যুরো নিউজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিরুলিয়া বাজারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা আদৌ ভাঙেনি। শনিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের একটি রিপোর্ট প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় কুড়ি দিন আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় জানানো হয়েছিল, তাঁর পা ভেঙেছে এবং তিনি প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই বাকি নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারী সেই সময় থেকেই এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট জানান, বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও চিড় বা ফ্র্যাকচার ছিল না। তিনি আরও বলেন, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামে হেরেই তো ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ওটা ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো ডাক্তারের থাকে না, রোগী পেয়ে যায়। রিপোর্টটা থাকে। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। সেদিন আপনাদের বদনাম করেছিল। লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর পায়ে একটু লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররাই লিখেছিল নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে ওই কাগজটা দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে।”
তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু থাকায় আপাতত তদন্ত শুরু করা সম্ভব নয়। উপনির্বাচন মিটে গেলেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে এবং প্রকৃত সত্য সামনে আনা হবে।
এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।








