ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে সোমবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে আকস্মিকভাবে পৌঁছে গেল সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মোড়ে মোড়ে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে আজ, ৮ জুন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরার নির্দেশ ছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তিনি বর্তমানে দিল্লির ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে রয়েছেন। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য তিনি ইমেল মারফত সিআইডি-কে সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোয়েন্দাদের দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছানোয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের একটি চিঠিতে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। দলেরই দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা প্রথম এই জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন, যার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। এই ভুয়ো স্বাক্ষর মামলার তদন্তেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়েছিল সিআইডি।
এর আগে গত ১ জুনও ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে অভিষেক সিআইডি-র তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেবারও গোয়েন্দারা তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন। সিআইডি-র এই লাগাতার সমন ও নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত আগামী ১০ জুন ২০২৬ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে সিআইডি-র এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে গভীর নজর কেড়েছে।








