ব্যুরো নিউজ, ১ নভেম্বর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে রক্তের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে বর্তমানে মোট রক্তের স্টক ১০ হাজার ইউনিটেরও নিচে নেমে গেছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়, সেখানে এই পরিমাণ মজুত ভবিষ্যতে বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, জরুরি অস্ত্রোপচার এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজন অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র কলকাতার ব্লাড ব্যাঙ্কেই মজুত ছিল মেরেকেটে ৫৬০ ইউনিট রক্ত।
সম্প্রতি এক রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত না মেলায়, বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শনিবার রাতে নীলরতন হাসপাতালে কথা বলে তিনি প্রশ্ন করেন, “একজন এমএলএ হয়ে যদি আমার এই অবস্থা হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?”
যদিও রক্তের ঘাটতির কথা সরাসরি অস্বীকার করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কোনও বিরল গ্রুপের রক্তের সমস্যা থাকতে পারে। এমনিতে রক্তের কোনও ঘাটতি নেই। ‘ও’ নেগেটিভ, ‘এবি’ নেগেটিভের মতো বিরল গ্রুপের রক্ত পেতে সমস্যা হলে মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। কোনও অসুবিধা হবে না। সেখানে যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত মজুত রয়েছে।” যদিও তাঁর এই দাবির সঙ্গে হাসপাতালগুলোর বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রক্তদান আন্দোলনের কর্ণধার ডি আশিসের মতে, রক্ত পাচারের আতঙ্কে মধ্যবিত্ত পরিবার রক্তদান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে সংগ্রহ করা রক্তের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির থেকে। রাজ্যে পালাবদলের পর সব ক্লাবেই ক্ষমতা হস্তান্তরের পালা চলায় রক্তের জোগানে টান পড়েছে।








