ব্যুরো নিউজ, ২২ আগস্ট ২০২৬: কলকাতায় নিউ মার্কেটের হোটেল বন্ধের জেরে গেস্ট হাউসের ভাড়া রাতারাতি আকাশছোঁয়া হয়েছে। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে শহরে আসা বাংলাদেশি পর্যটকরা। সম্প্রতি নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানকার বহু হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, কসবার টেগোর পার্ক-নস্করহাট এবং পিয়ারলেস হাসপাতালের আশপাশের বেআইনি গেস্ট হাউসগুলি মোটা অঙ্কের ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, আগে যে রুমগুলির দৈনিক ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ছিল, এখন সেগুলির জন্য দেড় থেকে দু’হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। কম বাজেটে চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশিরা এই আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধিতে দিশেহারা। অনেকেই দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন এবং তাঁদের বাজেট সীমিত থাকে। বুকিং করা রুম না পেয়ে তাঁদের বাধ্য হয়েই এই চড়া ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা তাঁদের আর্থিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেঙে দিচ্ছে। গেস্ট হাউস মালিকদের এই ‘ব্ল্যাকমেলিং’-এর শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ, যাঁরা নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রোগীরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া বৃদ্ধি কলকাতার পর্যটন শিল্প এবং মানবিক ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং ন্যায্য পরিষেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে এই অসাধু ব্যবসা বন্ধ হয় এবং পর্যটকরা ন্যায্য মূল্যে থাকার জায়গা পান। শহর কলকাতার আতিথেয়তার ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই ধরনের শোষণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।








