ঋতব্রতর বিদ্রোহের পর তৃণমূলের ৫০০ কোটি টাকার তহবিল কার হাতে? কালীঘাটে বাড়ছে উদ্বেগ

ঋতব্রতর বিদ্রোহের পর তৃণমূলের ৫০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কোষাগার কি বিদ্রোহীদের হাতে যাবে? বিস্তারিত জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার এক মাস পেরোতেই তৃণমূল কংগ্রেসে চরম অস্থিরতা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়কের বিদ্রোহে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ প্রায় বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, তৃণমূলের বিপুল ৫০০ কোটি টাকার তহবিল কার হাতে থাকবে? কালীঘাটের অন্দরে এখন এই নিয়েই গভীর উদ্বেগ।

দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা করছেন যে, বিদ্রোহীরা দলের প্রতীক চিহ্নের পাশাপাশি কোষাগারেরও দখল নিতে পারে। গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের আয় ছিল কয়েক’শ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ এসেছে ইলেক্টোরাল বন্ড এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের মাধ্যমে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির পর ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অনুদান পেয়েছিল তৃণমূল, প্রায় ১৫৯২.৫২ কোটি টাকা। ফিউচার গেমিং, হলদিয়া এনার্জি-সহ একাধিক সংস্থা ছিল প্রধান দাতা। ইলেক্টোরাল বন্ড বন্ধ হওয়ার পর ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরেও প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট, টাইগার অ্যাসোসিয়েটস-এর মতো সংস্থাগুলি থেকে ১৮৪.৫ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে তৃণমূল। দেশের আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে এই অনুদান ছিল সর্বোচ্চ।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদ্রোহের আবহে এই তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। মমতা শিবির মরিয়া হয়ে এই কোষাগার বাঁচাতে চাইছে, কারণ তারা জানে, এই তহবিল ছাড়া আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই চালানো কঠিন হবে। দিদি নিজেও আফশোস করছেন, গত পনেরো বছর বেতন বাবদ টাকা না তুলেও হয়তো ভুল হয়েছে, কারণ দুর্দিনে পুরনো সঙ্গীরা পাশে নাও থাকতে পারেন।