ব্যুরো নিউজ ১৫ অক্টোবর:
নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর: দিল্লির যন্তর মন্তরকে ধর্না ও বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস জারি করে।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে আইন নিজের পথেই চলবে। আদালতের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে এখানে ধর্না, অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে ধর্নাস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, যন্তর মন্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদস্থলকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়া এবং নিজেদের দাবি তুলে ধরার অধিকার প্রভাবিত হতে পারে। সেই কারণেই নির্দেশিকাটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস জারি করে। আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রথমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে। তাদের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আমরা কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে নোটিস জারি করে তাদের জবাব তলব করছি। তাদের উত্তর দিতে দিন। যদি সেই জবাবে আমরা সন্তুষ্ট না হই, আইন নিজের পথে চলবে।”
আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে যন্তর মন্তরে ধর্না ও বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। এখন কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাবের দিকে নজর রয়েছে।
তবে নোটিস জারি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।








