৬ মাসের কম বয়সি শিশুর খাবারে চিনি নিষিদ্ধ, কড়া নির্দেশিকা জারি খাদ্যসুরক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার

FSSAI-এর নয়া নির্দেশিকা: ৬ মাসের কম বয়সি শিশুর খাবারে চিনি, ফ্রুক্টোজ বা সুক্রোজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুস্থ শৈশবের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ অক্টোবর ২০২৬: কেন্দ্রীয় খাদ্যসুরক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (FSSAI) শিশুদের খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি ৬ মাসের কমবয়সি শিশুদের খাবারে চিনি, ফ্রুক্টোজ বা সুক্রোজ মেশানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশজুড়ে শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির জন্য এক কড়া বার্তা।

চিকিৎসকদের মতে, জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই একমাত্র খাদ্য। এই সময়ে জলও পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ মায়ের দুধই শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও জলীয় চাহিদা পূরণ করে। ৬ মাস পর থেকে ধীরে ধীরে সলিড ফুড শুরু হলেও, প্রথম ২ বছর খাবারে চিনি যোগ করা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

FSSAI-এর এই নতুন প্রস্তাবনা, যা আগে ২ বছরের কমবয়সি শিশুদের বেবিফুডে চিনি মেশানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, এখন তা কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে, যা বর্তমান স্বাস্থ্য গবেষণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শৈশবে মিষ্টি স্বাদের প্রতি আসক্তি তৈরি হলে ভবিষ্যতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

প্রথম থেকে শর্করা জাতীয় খাবার শিশুর খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করতে পারে এবং তাদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রথম ৬ মাস মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কিছু না দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ৬ মাস পর ফল থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক শর্করা শিশুর জন্য উপকারী হলেও, মধু বা গুড়ের মতো অতিরিক্ত শর্করা শিশুর ডায়েটে রাখা উচিত নয়।

এই পদক্ষেপ শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি এবং অভিভাবকদেরও এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।