ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ ভারতের স্থাপত্যশৈলী শুধু স্থলেই সীমাবদ্ধ নয়, জলের বুকেও এর অসাধারণ নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। রাজকীয় প্রাসাদ মানেই পাহাড়ের চূড়া বা মরুভূমির বিশাল দুর্গ নয়, বরং হ্রদের মাঝে তৈরি আশ্চর্য সব জলমহলও আমাদের ঐতিহ্য ও কারুকার্যের প্রতীক। গরমের দিনে রাজপরিবারকে শীতল আমেজ দিতে, শিকারের অবসরে আমোদপ্রমোদ করতে কিংবা কৌশলগত কারণে এই প্রাসাদগুলো তৈরি হয়েছিল।
স্থাপত্যবিদ্যার চমৎকার কারিগরি ও নান্দনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি ভারতের এমন পাঁচটি অসাধারণ জলমহল পর্যটকদের মন জয় করে। রাজস্থানের জয়পুরের মান সাগর হ্রদের মাঝে অবস্থিত জলমহল তার পাঁচতলা কাঠামোর জন্য বিখ্যাত, যার চারটি তলা জলের নিচে থাকে। এটি রাজপুত ও মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য মিশ্রণ। উদয়পুরের পিচোলা হ্রদের বুকে ভাসমান তাজ লেক প্যালেস, যা একসময় ‘জগ নিবাস’ নামে পরিচিত ছিল, এখন বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল হেরিটেজ হোটেল। এর শ্বেতপাথরের কাজ এবং মেওয়ার স্থাপত্যের নিদর্শন সত্যিই মনোমুগ্ধকর। পূর্ব ভারতের একমাত্র এবং বৃহত্তম জলমহল হলো ত্রিপুরার রুদ্রসাগর হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত নীরমহল।
হিন্দু ও মুঘল স্থাপত্যের মিশেলে তৈরি এই প্রাসাদে নৌকা ছাড়া পৌঁছানো যায় না। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের জয় বিলাস প্যালেস যদিও পুরোপুরি জলের পরিখায় ঘেরা নয়, তবে এর নকশায় কৃত্রিম ফোয়ারা ও জলের কুণ্ডের ব্যবহার প্রাসাদটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কেরালার শান্ত ব্যাকওয়াটার ও হ্রদের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী কাঠের প্রাসাদগুলো সেখানকার আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই। ঢালু ছাদ এবং কাঠের কারুকাজ এই মহলগুলোকে এক অদ্ভুত শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ দেয়। এই জলমহলগুলি কেবল স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও প্রতিচ্ছবি।








