ব্লুমবার্গকে পালটা জবাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের, চিন-ভারতের তুলনাকে ‘ভুল’ বললেন তিনি

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব চিন-ভারতের অর্থনীতির তুলনা নিয়ে করা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই তুলনাকে 'ভুল' বলে অভিহিত করেছেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: দেশের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদনে ভারত ও চিনের অর্থনীতির তুলনা করা হয়েছিল, তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ‘ভুল’ বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের তুলনা একেবারেই সঠিক নয় এবং ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিজস্ব পথে এগোচ্ছে।

এই কড়া প্রতিক্রিয়ার কারণ হল ব্লুমবার্গের কলাম লেখক অ্যান্ডি মুখার্জির প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনে লেখক মন্তব্য করেন, মোবাইল ফোন তৈরির ক্ষেত্রে ভারত কখনোই চীনের সাফল্যের সমকক্ষ হতে পারবে না। তাঁকে বলতে দেখা যায়, “প্রতি চারটি আইফোনের একটি ভারতে তৈরি হয়, কিন্তু আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ এবং ব্যয়বহুল ভর্তুকি এই সাফল্যের গল্পটিকে জটিল করে তুলেছে।” ভারতের জন্য “চীনের উৎপাদন মডেল অনুকরণ করাটা হয়তো খুব একটা কার্যকর হবে না” বলে তিনি দাবি করেন।

তবে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বৈষ্ণব এই দাবিগুলোকে খণ্ডন করেছেন এবং মোবাইল উৎপাদন সংক্রান্ত ‘প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ’ (পিএলআই) প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের দেওয়া ইনটেনসিভের পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু কর আদায়ের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া, জিএসটি বাবদ আরও ৩ লক্ষ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। এর সাথে তিনি এই খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্প ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, যার মধ্যে কেবল মোবাইল উৎপাদন খাতেই কাজ করছেন ১২ লক্ষ মানুষ।বৈষ্ণব তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক নীতির উপর জোর দেন।

বৈষ্ণব বলেন, ‘ভারত নিজস্ব পথে শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমাদের নীতিগুলি দেশের উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত সরকার দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং শিল্পায়নের উপর বিশেষ নজর দিচ্ছে, যা চিনের সঙ্গে তুলনার ঊর্ধ্বে। মন্ত্রী আরও জানান যে, ভারত সরকার ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাড়াতে সচেষ্ট। এই উদ্যোগগুলি ভারতের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।