ব্যুরো নিউজ, ১৯ জুলাই ২০২৬: দিল্লি পুলিশ বর্ষা অধিবেশনের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে তাদের পরিকল্পিত ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেয়নি। আগামী দিনে শুরু হতে চলা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিজেপি অবশ্য বিগত দেড় মাস ধরে জন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২০ দিন ধরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওয়াংচুকই ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন এবং বিপুল সংখ্যায় মানুষকে এতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই মিছিল আয়োজনের জন্য সিজেপি পুলিশের কাছে কোনো অনুমতি চায়নি। এমনকি যন্তর মন্তরে সিজেপির চলমান বিক্ষোভকেও দিল্লি পুলিশ ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছে, কারণ সেই কর্মসূচির জন্যও দলটি কোনো অনুমতি নেয়নি। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন এবং সিজেপির মিছিলের ডাকের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ সমগ্র রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এমনকি দলটি যদি এখন মিছিলের অনুমতির জন্য দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থও হয়, তবুও ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সূত্রানুযায়ী, সিজেপি-এর এই কর্মসূচি সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে সংসদ ভবন এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক পুলিশি প্রহরা বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রবেশ ও প্রস্থানের পয়েন্টগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা কোনও সংগঠনকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল বা প্রতিবাদ করার অনুমতি দেব না, বিশেষ করে যখন সংসদের অধিবেশন চলছে। জননিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিজেপি অবশ্য তাদের কর্মসূচির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল যে এটি একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হবে, কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। রাজধানীতে ১৪৪ ধারা জারি না থাকলেও, বড় জমায়েত এবং মিছিলের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি বর্ষা অধিবেশনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।








