দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে হাতির লড়াইয়ে পর্যটকের মৃত্যু, জারি হল ৫ কড়া নিয়ম

দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে হাতির লড়াইয়ে পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু। পর্যটকদের সুরক্ষায় কর্নাটক সরকার জারি করল ৫টি কড়া নতুন নিয়ম। জানুন কী কী মানতে হবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ই মে ২০২৬ঃ কর্নাটকের কোডাগু জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক মহিলা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ তারিখে কাবেরী নদীতে হাতিদের স্নান করানোর সময় দুটি কুনকি হাতির আকস্মিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে পিষে মারা যান তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে আসা ৩৩ বছর বয়সী তুলসী নামের ওই মহিলা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঞ্চন ও মার্তণ্ড নামের দুটি কুনকি হাতির স্নান পর্ব চলছিল। আচমকাই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। কাঞ্চনের ধাক্কায় মার্তণ্ড ভারসাম্য হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পর্যটক তুলসীর উপর উল্টে পড়ে। হাতির বিশাল শরীরের নীচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশেই থাকা তাঁর স্বামী ও সন্তান কোনওমতে প্রাণে বাঁচেন। এই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের অরণ্য ও পরিবেশমন্ত্রী গভীর শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী যতই প্রশিক্ষিত হোক না কেন, তাদের আচরণ অনুমান করা অসম্ভব।

এমন দুর্ঘটনা রুখতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ থেকে কর্নাটকের সমস্ত এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে পর্যটকদের জন্য ৫টি নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুযায়ী, এখন থেকে হাতিদের কাছাকাছি যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পর্যটকদের হাতি থেকে অন্তত ১০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, নির্দিষ্ট ভিউয়িং জোন থেকেই হাতি দেখা যাবে। হাতির ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি বা ছবি তোলা যাবে না। পর্যটকদের হাতি স্নান করানোর প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। কোনও অবস্থাতেই হাতির শুঁড় বা শরীর স্পর্শ করা যাবে না এবং নিজেদের হাতে করে হাতিদের খাবার খাওয়ানোও নিষিদ্ধ। এই নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।