ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, প্রাণহানির আশঙ্কা সত্ত্বেও অনড় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

প্রাণহানি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা সত্ত্বেও ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওয়াশিংটনে জানালেন নিজের দৃঢ় অবস্থান। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও স্থির হয়নি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরছেন। প্রাণহানি, গ্রেপ্তার বা অকথ্য অত্যাচারের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।

ওয়াশিংটনে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অনলাইনে যোগ দিয়ে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে যাব। আমি ভীত নই। আমি জানি, ওরা আমাকে হত্যা করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং নির্যাতনও করতে পারে, তবু ফিরে যাওয়াটা আমার দায়িত্ব। যতই ঝুঁকিপূর্ণ হোক, আমি পরোয়া করি না। আমাকে ফিরতেই হবে।”

হাসিনার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল। এবার তিনি নিজেই নিজের ফেরার তারিখ ঘোষণা করলেন, যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ঠিক কোন তারিখে তাঁর মা দেশে ফিরবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই সকলকে এই বিষয়ে জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসিনার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সাহসী এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই দৃঢ়তা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অতীতেও তিনি বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। দেশের শাসনভার থেকে দূরে থাকলেও, তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর দেশে ফেরা নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে কিভাবে প্রভাবিত করবে এবং প্রত্যাবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা দেখতে উৎসুক গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক মহল।