ব্যুরো নিউজ, ৫ আগস্ট ২০২৬ঃ দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন। বুধবারের এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “দেশে আমি ফিরবই, লড়ব, গড়ব।” বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে ফেরার অঙ্গীকার করেন তিনি, কারণ তাঁর মতে, দেশ ও দেশবাসী বিপন্ন। হাসিনার এই রাজনৈতিক ভাষণ ঘিরে বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি ছিল।
ভারত সরকার অবশ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, দিল্লিতে তাঁর উপস্থিতিতে বা ভাষণে তাদের কোনো আপত্তি নেই। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, তিনি কেবল পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবেও কথা বলছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ এবং সেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা সবই বিপন্ন। তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একই অভিযোগ করেন, বলেন, সফল রাষ্ট্রের কোনো গুণাবলী এখন আর বাংলাদেশে অবশিষ্ট নেই।
সম্প্রতি বাংলাদেশে তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, এটি কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং সুসংগঠিত কিছু গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত একটি সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই এই আন্দোলনকে “অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিকল্পিত” বলে অভিহিত করেছেন। ১৫ জুলাই থেকে আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায় এবং হত্যা, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটপাট শুরু হয়, যা বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, মেট্রো স্টেশন সহ রাষ্ট্রের বহু সম্পদ ধ্বংস করে। আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতা-কর্মীরাও হামলার শিকার হন, এমনকি গণমাধ্যমও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।








