ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুন ২০২৬ঃ নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে। রবিবার সন্ধেয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিনিয়র উপদেষ্টাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থামায়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রুটিন নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাঁর নাম একটি নজরদারি তালিকায় চিহ্নিত হয়। জাহেদ উর রহমান ইন্ডিয়ান ওশিয়ান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) আধিকারিকদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা নির্বিঘ্নে অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও, রহমান আটকে পড়েন। ভারতের বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা ঘটনার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন এবং রহমানকে শনাক্তও করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁর আগাম সফরসূচি এবং প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসাবে তাঁর ভূমিকার কথা ভারত সরকারকে জানানো সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও তিনি SAARC ভিসা স্টিকার সহ স্বাভাবিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে এসেছিলেন, তাই তাঁকে রুটিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল।
সম্ভবত কোনও টেকনিক্যাল বা ডেটাবেস ত্রুটির কারণে তাঁর নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় উঠে আসে, যা এই বিলম্বের মূল কারণ। আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর, জাহেদ উর রহমান নির্ধারিত সফর বাতিল করে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ভারতীয় আধিকারিকরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ করেছিলেন, তিনি ভারতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে দেশে ফেরেন। প্রসঙ্গত, চিকিৎসক ও নীতি-উপদেষ্টা এবং সুপরিচিত জন-ভাষ্যকার জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করে এবং ঘটনাটি নিয়ে ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করেছে, যা ঢাকার প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া।







