ব্যুরো নিউজ, ১৯ জুলাই ২০২৬ঃ সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তপ্ত দিল্লির রাজনীতি। রবিবার প্রথা মেনে ডাকা সর্বদল বৈঠকে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। তৃণমূল ছেড়ে সদ্য ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়া দলত্যাগী সাংসদদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত। স্পিকার এখনও তাঁদের আলাদা দল হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি না দিলেও, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠক শুরু হতেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একজোট হয়ে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান তৃণমূল কংগ্রেস সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটা বড় অংশের সাংসদরা।
মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায় সহ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, সিপিআই এবং শিবসেনার (উদ্ধব শিবির) সাংসদেরা প্রতিবাদে সামিল হন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তোলেন, স্পিকারের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে দলত্যাগী সাংসদদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল? এই অনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তাঁরা বৈঠক বয়কট করেছেন বলে জানান। রাজ্যে পালাবদলের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন এবং NDA জোটকে সমর্থন করার কথা জানান।
স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁরা আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানালেও, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই দলত্যাগীদের কেন্দ্রীয় সরকারের এই গুরুত্ব দেওয়া বিরোধীদের ক্ষুব্ধ করেছে। বাদল অধিবেশনে মোদী সরকারকে চেপে ধরতে এই ‘এনসিপিআই’ বিতর্ককে বিরোধীরা অস্ত্র করবে, রবিবারের এই ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।








