ব্যুরো নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে পারমাণবিক হামলার হুমকি বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং প্রাক্তন আমেরিকার ফক্স নিউজের সাংবাদিক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন যে ইরান-মার্কিন উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং আমেরিকা ইরানের ‘পিক্যাক্স পর্বত’ নামক স্থানে পারমাণবিক হামলা চালানোর কথা ভাবছে।
আমেরিকান গুপ্তচর সংস্থাদের মতে, ইরান সরকার এই পিক্যাক্স পর্বতের ৩২৮ ফুট নীচে একটি গোপন কাঠামো তৈরি করে সেখানে পারমাণবিক বোমা তৈরি করার জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার সংগ্রহ করে রেখেছে। তাই এই পাহাড় পেন্টাগনের নজরে বহুদিন ধরেই আছে। তাই এই এলাকায় পারমাণবিক আক্রমণ হলে তার প্রভাবে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তা ভারতের মতো দূরবর্তী দেশেও পৌঁছাতে পারে কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে তা নির্ভর করবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর। পারমাণবিক বোমার ক্ষমতা, বিস্ফোরণের ধরণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সেই সময়ের আবহাওয়ার উপর এর বিস্তার নির্ভর করবে।
যদিও দক্ষিণ ইরানের পিক্যাক্স পর্বত ভারতের থেকে প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, তবুও প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয় কণা পাকিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই ধরনের হামলার হুমকি দিলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চললেও, শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে তা সময়ই বলবে।
কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ভেদ করতে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র যথেষ্ট নয়, তাই পারমাণবিক অস্ত্রই একমাত্র বিকল্প হতে পারে। তবে, এই ধরনের হামলার ফলে কেবল ইরান নয়, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলিও পারমাণবিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।








