তামিলনাড়ুর ‘আম্মা’ জয়ললিতার জন্মদিনে জানুন তাঁর জীবনের অজানা কিছু বিশেষ দিক

তামিলনাড়ুর 'আম্মা' জয়ললিতার জন্মদিনে জানুন তাঁর জীবনের অজানা কিছু বিশেষ দিক

Share:

ব্যুরো নিউজ,২৪ ফেব্রুয়ারি:জয়ললিতা, যিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর জনপ্রিয়তা আজও মানুষের হৃদয়ে অটুট রয়েছে। তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং জনগণের নেত্রী হিসেবেও পৃথিবীজুড়ে পরিচিত। তাঁর মৃত্যু ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। আজ, তাঁর ৭২ তম জন্মদিনে, চলুন জানি কিছু অজানা এবং চমকপ্রদ তথ্য ‘আম্মা’র সম্পর্কে।জয়ললিতা ১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, কর্ণাটকের মেলুকোটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল কোমলভাল্লি, কিন্তু এক বছর বয়সে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জয়ললিতা।

তামিলনাড়ুর ‘আম্মা’ জয়ললিতার জন্মদিনে জানুন এই কিংবদন্তির যাত্রার কাহিনী

‘জয়া বিলাস’

মাইসোরে যেখানে তিনি বসবাস করতেন, সেখানে দুটি বাড়ির নাম ছিল ‘জয়া বিলাস’ এবং ‘ললিতা বিলাস’, এবং এ দুটি নাম থেকেই তার নামকরণ করা হয়।মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি ভারতীয় classical নৃত্য ‘ভারতনাট্যম’ শিখতে শুরু করেন। কিন্তু অভিনয় জীবনে আসতে তাকে তাঁর মায়ের প্ররোচনায় ১৫ বছর বয়সে তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে পা রাখতে হয়। জয়ললিতা অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং তার প্রথম সিনেমা তেমনই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, তা ‘এডাল্ট অনলি’ নামে মুক্তি পায়। তবে, বয়সের কারণে তিনি নিজে তার প্রথম সিনেমাটি দেখতে পারেননি।

এছাড়া, জয়ললিতা কখনও রাজনীতিতে আসতে চাননি। কিন্তু তাঁর সহ-অভিনেতা এবং গুরু এমজিআর তাকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালে এমজিআরের অনুরোধে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং খুব শীঘ্রই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৯১ সালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং পরবর্তী ১৪ বছর ধরে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জয়ললিতা তাঁর প্রথম বেতন চেক গ্রহণ করেননি, কারণ তিনি বলেছিলেন যে তার ইতিমধ্যে যথেষ্ট আয়ের উৎস রয়েছে এবং তিনি বেতন নিতে চান না। তবে, পরে তাঁকে সরকারি কর্মচারী হিসেবে বেতন নিতে বলা হলে, তিনি মাত্র ১ টাকা বেতন গ্রহণ করতে রাজি হন।

মহাশিবরাত্রি ২০২৫ এ বিরল গ্রহের সন্নিবেশ, কি কি শুভ জিনিস ঘোটতে চলেছে আপনার জীবনে? জানুন

১৯৯৫ সালে, তার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার সময়, তিনি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন। তার ‘পুত্র’ সুধাগরণের বিয়েতে প্রায় ১,৫০,০০০ অতিথি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, যা গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে স্থান পায়।তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত পাঠিকা এবং ইংরেজি ভাষায় বেশ পারদর্শী ছিলেন। তিনি হিন্দি, তামিল এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং এক সাক্ষাৎকারে সিমি গ্রেওয়ালের সাথে হিন্দি গান গেয়েছিলেন।অভিনয়ে তিনি ৮৫টি তামিল সিনেমায় কাজ করেছেন, তবে তিনি একটি হিন্দি সিনেমাও করেছেন, ‘ইজ্জত’ নামক ছবিটি, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন ধর্মেন্দ্র। সিনেমাটি হিট হয়েছিল এবং তিনি এই সময় তার রাজনীতির জীবনের শুরুতেই সিনেমা ও রাজনীতি একসঙ্গে সামাল দিয়েছিলেন।এছাড়া, ‘আম্মা’ রাজনীতিতে আসার জন্য এমজিআর তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যিনি তামিলনাড়ুর অন্যতম রাজনৈতিক মহানায়ক ছিলেন। জয়ললিতা তাঁর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং এআইএডিএমকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন।