চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল রকেটের অংশ, জোয়ার-ভাটাতেও পড়তে পারে প্রভাব! চিন্তায় নাসা

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল স্পেস এক্সের রকেটের অংশ। এর ফলে জোয়ার-ভাটাতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বিজ্ঞানীরা এই বিরল ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ আগস্ট ২০২৬ঃ চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ। ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ এই সংঘর্ষ ঘটে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন। যদিও নিশ্চিত প্রমাণ পেতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। প্রায় ১২ মিটার লম্বা এবং ৪,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের এই অংশটি ফ্যালকন ৯ রকেটের উপরের অংশ ছিল। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি উৎক্ষেপণের পর এটি ১৯ মাস ধরে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং সূর্যের আলোর সামান্য চাপ এর গতিপথ পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত এটিকে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের পথে নিয়ে আসে।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৮,৭০০ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়েছে। এই সংঘর্ষের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান। চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় পৃথিবীর মতো বায়ুর ঘর্ষণে এর গতি কমেনি। ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণ গতিতেই চন্দ্রপৃষ্ঠে আঘাত হানে। এর ফলে চাঁদের মাটিতে ২০ থেকে ৩০ মিটার চওড়া একটি নতুন গর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লক্ষ কিলোগ্রামেরও বেশি চন্দ্র ধুলো ও পাথরের টুকরো ছিটকে যেতে পারে।

এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কোনো প্রাকৃতিক উল্কাপিণ্ডের আঘাত নয়। রকেটটির ওজন, গতি, আকার এবং সংঘর্ষের সময় আগে থেকেই জানা ছিল। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া একটি আঘাতকে সরাসরি পর্যবেক্ষণের বিরল সুযোগ পাচ্ছেন গবেষকরা। এই ঘটনা ভবিষ্যতে চাঁদের ভূকম্পন গবেষণাতেও সাহায্য করবে। বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, কৃত্রিম সংঘর্ষের পর চাঁদের মাটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। জোয়ার-ভাটাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নাসার মতো মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলিকেও চিন্তায় ফেলেছে।