ব্যুরো নিউজ, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। তারা তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলির উপর তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্ত চীনের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রথম কোনো দেশ তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিল। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের ফলে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক উড়ানে বড়সড় প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এশিয়ার মধ্যে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৫শে অক্টোবর থেকে চায়না এয়ারলাইন্স এবং ইভিএ এয়ার পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর থেকে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী এই দুই এয়ারলাইন্সের অন্তত এক ডজন ফ্লাইট এখন রাশিয়ার আকাশসীমা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।এই নতুন রুট ব্যবহারের ফলে তাইওয়ানের এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইটের সময় ও জ্বালানি ব্যয়—উভয়ই বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তাইওয়ানের সিভিল অ্যারোনটিক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও সরাসরি এই রুট পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেনি; তবে তারা জানিয়েছে যে, রাশিয়ার আকাশসীমা দিয়ে বিমান চলাচলের ওপর তাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা কখনোই ছিল না।
এর ফলে ইউরোপগামী ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে চায়না এয়ারলাইন্স রোমগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং ইভিএ এয়ার লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সেবা দিয়ে থাকে।চীনের ‘এক চীন নীতি’ অনুযায়ী, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। পাকিস্তান বরাবরই এই নীতিকে সমর্থন করে এসেছে, তবে এবার তারা সরাসরি এই নীতির সমর্থনে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পাকিস্তান ও তাইওয়ানের মধ্যেকার সম্পর্কও নতুন মোড় নিতে পারে।








