১৪,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বড়সড় বিপ্লবের পথে ভারত!

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) নতুন প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেছে। সরকারি প্রকল্প, নীতি ও সাম্প্রতিক তথ্য জানতে দেখুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪নভেম্বর ২০২৬:  বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও ভবিষ্যতের চাহিদার উপযোগী করে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন করল গ্রিড-স্কেল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা গ্রিড-স্তরের শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৪,৫০০ কোটি টাকার ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’ প্রকল্প।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, সারা দেশে নতুন করে ৯২ গিগাওয়াট-আওয়ার শক্তি সঞ্চয় ক্ষমতা তৈরি করা। এর ফলে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ গ্রিড-স্তরের শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা রয়েছে, তার তুলনায় প্রায় ১৭০ শতাংশ অতিরিক্ত সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে দেশের প্রয়োজনীয় ৪১১ গিগাওয়াট-আওয়ার শক্তি সঞ্চয় ক্ষমতা অর্জনের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ গিগাওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, ৬০ গিগাওয়াট-আওয়ার পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প এবং ২ গিগাওয়াট-আওয়ার উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থাকে এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, উৎপাদিত বিদ্যুৎকে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে।

বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূর্যের আলো বা বাতাসের উপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। তাই অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য হবে। পাশাপাশি গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিদ্যুতের অপচয় কমাতেও সাহায্য করবে।

শক্তি সঞ্চয় পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে এই ১৪,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের কাছে সার্বক্ষণিক নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।