ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারত, বাংলাদেশ বা ফ্রান্সের মতো দেশ নয়। এখানে সরকার পরিবর্তন শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব, কোনও রকম হিংসা বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভের আবহে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে রিজিজু অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনা এবং ফ্রান্সে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাটের মতো পরিস্থিতি ভারতেই ঘটানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ভারত-বিরোধী কিছু গোষ্ঠী এবং কিছু রাজনীতিবিদ মিলে যুবকদের উস্কে দিয়ে আমাদের দেশে রাস্তায় হিংসা ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল।” এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক বলে তিনি মনে করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “কিন্তু এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভুলে গিয়েছে যে এটা ভারত। বাংলাদেশ বা ফ্রান্স নয়। ভারতে সরকার পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে, সোরোসের মাধ্যমে নয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তাঁর এই বার্তার পাশাপাশি তিনি এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরার একটি বিতর্কিত সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, যা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেছিলেন, ”বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য। ভারতে তরুণরা আজ যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, সেটিও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার একটি সংগ্রাম। বাংলাদেশের তরুণরা ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়ছে। ভারতেও জেন-জি একই লড়াই লড়ছে। ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আক্রমণের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয় কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের অধিকারের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। শিক্ষাকে বেসরকারীকরণের ষড়যন্ত্র চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গেরুয়াকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে দমন করা হচ্ছে।”
রিজিজুর এই মন্তব্য দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে এর প্রতিক্রিয়াও আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।







