ডলারের ‘বাউন্সি পিচে’ রুপির লড়াই: সামান্য শক্তি বৃদ্ধি সত্ত্বেও কেন কাটছে না উদ্বেগ?

ডলারের সামনে রুপির সামান্য শক্তি বৃদ্ধি সত্ত্বেও কেন বাড়ছে উদ্বেগ? অপরিশোধিত তেলের দাম ও বিদেশি লগ্নিকারীদের বাজার ত্যাগই কি মূল কারণ?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: ভারতীয় মুদ্রা রুপি মার্কিন ডলারের সামনে সামান্য শক্তি বৃদ্ধি করলেও, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই সাময়িক স্বস্তিকে ‘বাউন্সি পিচে’ থিতু হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। এর ফলে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে (আরবিআই) বাধ্য হয়ে ডলার কিনতে হচ্ছে, যা রুপির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। চলতি মাসে বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিচ্ছেন।

বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৮,০৫৬ কোটি টাকা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বছর মোট ৩.০৮ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিদেশি লগ্নিকারীরা। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আমেরিকায় সুদ ও বন্ডের প্রকৃত আয় বৃদ্ধিকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সোমবার দিনের শুরুতে ১ ডলারের দাম ৯৪.৯৩ রুপিতে নেমে এলেও, এটি স্থায়ী হবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়াচ্ছে।

ধনকুবের মুকেশ অম্বানীর জ়িয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা থাকলেও, তা রুপির পতন আটকাতে পারেনি। কারেন্সি পজিশন গুটিয়ে নেওয়ার ফলে ডলারের নিরিখে রুপি ৯৪.৩২ থেকে কমে ৯৪.৯৭-এ নেমে আসে। ২৮ অক্টোবর তালিকাভুক্তির পর রুপির আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।