ব্যুরো নিউজ,২৬ অক্টোবর২০২৬: ইনস্টাগ্রামে বিলাসবহুল গাড়ির সঙ্গে ছবি, গায়ে ব্র্যান্ডেড পোশাক, আর নিজেকে ক্রিকেট জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচয়! বাহ্যিক চাকচিক্য দেখিয়ে মহিলাদের বিশ্বাস অর্জন এবং বিনিয়োগে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ২৩ বছরের যুবক বিক্রান্ত তোমর। দিল্লি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, কোটিপতির ভাবমূর্তি তৈরি করতে যে মার্সিডিজ ও বিএমডব্লিউ গাড়ি ব্যবহার করত সে, সেগুলি আদতে ছিল ভাড়া করা!
পুলিশ সূত্রে খবর, করোল বাগ থানায় কর্মরত শিবানী নামে এক মহিলা কনস্টেবলের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ করে বিক্রান্ত। দিল্লি পুলিশে স্পোর্টস কোটায় চাকরি পাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার অছিলায় শুরু হয় আলাপ। পরে হোয়াটসঅ্যাপে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অভিযুক্ত। এরপর নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে মোটা অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, বিক্রান্তের কথায় বিশ্বাস করে ওই মহিলা কনস্টেবল প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ১২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণও নিয়েছিলেন তিনি। পরিচিতদের কাছ থেকেও টাকা ধার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা একটি বেটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করার সময় অশালীন আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ধনী ব্যবসায়ীর ভাবমূর্তি তৈরি করতে ঘণ্টার হিসাবে বিলাসবহুল গাড়ি ভাড়া করত বিক্রান্ত। সেই গাড়িতে মহিলাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো এবং ছবি-ভিডিয়ো পোস্ট করে নিজের আর্থিক প্রতিপত্তির ভুয়ো ধারণা তৈরি করত বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে অন্তত ২০ জন মহিলা এই প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। অভিযুক্তের সঙ্গে এক মহিলা কনস্টেবলের লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। সেই সূত্রে অন্য মহিলা পুলিশকর্মীদেরও নিশানা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিক্রান্তের বিরুদ্ধে দিল্লির বিভিন্ন থানায় আগেও পাঁচটি প্রতারণার মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গত জুনে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফের তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে গোটা চক্রের সন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
সতর্কবার্তা: সোশ্যাল মিডিয়ায় দামি গাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাপন কিংবা মিষ্টি কথার মোহে পড়ে অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস বা টাকা দেওয়ার আগে তাঁর পরিচয় ও বিনিয়োগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।








