ব্যুরো নিউজ, ৫ আগস্ট ২০২৬ঃ দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতা সফর শেষ করে বুধবার শহর ছাড়লেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। গত ৩১ জুলাই তিনি যখন কলকাতায় পা রেখেছিলেন, তখন থেকেই তাঁর এই সফর ঘিরে সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল। শহর ছাড়ার ঠিক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকুলতা প্রকাশ করেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কলকাতার প্রতি নিজের অগাধ ভালোবাসার কথা জানিয়ে লেখিকা বলেন, “কলকাতায় এসে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। এই শহরের সঙ্গে আমার আবেগ জড়িত।” তিনি আগামী কলকাতা বইমেলা বা মাঝের অক্টোবর মাসেও ফের শহরে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। এবারের সফরে কলকাতার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও উষ্ণতা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এই স্মৃতি তাঁর কাছে অমলিন হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন। তবে, তাঁর বক্তব্যে মূল বিষয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা।
তসলিমা জানান, তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে গৃহহীন, নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবীকরণ করতে অস্বীকার করছে। এমনকি, বর্তমানে তাঁর কাছে যে সুইডিশ পাসপোর্টটি রয়েছে, সেটিতেও বাংলাদেশ সরকার কোনও ভিসা প্রদান করছে না। এই আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিনি ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিজের জন্মভূমিতে পা রাখতে পারছেন না বলে এক বুক আক্ষেপ নিয়ে বলেন। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের পর কলকাতায় এসে মাতৃভূমির প্রতি তাঁর এই আবেগপ্রবণ আকুতি বহু মানুষের মনে দাগ কেটেছে। তসলিমার এই সফর এবং পরবর্তী মন্তব্যগুলি সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আপাতত ভারতেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।








