ব্যুরো নিউজ, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কিরঘিস্তানে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের মধ্যে পার্শ্ববৈঠক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমেরিকা।
এই বৈঠকের পর মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, কোনও দেশেরই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা উচিত নয়। তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারত-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটন বিভিন্ন দেশের ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার জন্য কোনও রকম সাহায্য করা যাবে না। এমনকি, এমন কোনও ব্যবস্থা তৈরিতেও সাহায্য করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। আমেরিকার এই কঠোর অবস্থান ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ ভারত ঐতিহ্যগতভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে, এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ও ভারতের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন মোদি ও পেজেসকিয়ান। এই বৈঠককে ভারত ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আমেরিকার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।








