ব্যুরো নিউজ, ৫ আগস্ট ২০২৬ঃ মেটার প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক ভিডিও এবং শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান (CSEAM) ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মেটার আন্তর্জাতিক স্তরের পদস্থ আধিকারিকদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই দুঃখপ্রকাশ করা হয়। সূত্রের খবর, মেটা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার খামতি এবং বিতর্কিত কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে গলদের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ভারতের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মেটা প্রধানকে তিন দিনের আল্টিমেটাম জারি করেছিল।
সাংসদ নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও আচমকা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জাকারবার্গকে নিজে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে, যার ফলে ভারতে মেটা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করার পথ খুলে যাবে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, মেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কন্টেন্টকে প্রচার করতে প্রচুর পরিমাণে টাকা দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি ‘বিবিসি আই’-এর এক তদন্তকারী রিপোর্টে মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় প্রায় ৩০টিরও বেশি বিজ্ঞাপন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদানকে উস্কে দিচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটাকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা আর সাধারণ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে সুবিধা পেতে পারে না, কারণ মেটা নিজেই ব্যবহারকারীর কাছে কোন কন্টেন্ট পৌঁছবে তা বেছে নেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষাকবচ তাদের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়। ভারত সরকারের এই কঠোর অবস্থানে মেটা কর্তৃপক্ষ অবশেষে পিছু হটল।








