মহাদেব কোলি উপজাতি: প্রকৃতির ভাষা বোঝেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বিজ্ঞানীদের নতুন ভরসা

মহারাষ্ট্রের মহাদেব কোলি উপজাতি প্রকৃতির ভাষা বোঝেন। জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাসে তাঁদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান এখন বিজ্ঞানীদের ভরসা। জানুন এই আদিবাসীদের বিস্ময়কর জীবনযাপন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গভীরে বসবাসকারী মহাদেব কোলি উপজাতি প্রকৃতির সঙ্গে এক অসাধারণ বন্ধনে আবদ্ধ। এই আদিবাসীরা গাছ, নদী ও পাখির ভাষা বোঝেন, যা তাঁদের জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে। আধুনিক স্যাটেলাইট বা অ্যাপের সাহায্য ছাড়াই তাঁরা প্রকৃতির সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বুঝে ফেলেন।

তাঁদের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ জ্ঞান (Traditional Ecological Knowledge বা TEK) এখন বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ২০২৫ সালে ওয়াটারশেড অর্গানাইজেশন ট্রাস্ট (WOTR)-এর একটি গবেষণায় মহাদেব কোলি সম্প্রদায়ের এই বিস্ময়কর ক্ষমতা উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই উপজাতির কাছে প্রকৃতি কেবল সম্পদ নয়, এটি একটি জীবন্ত পাঠশালা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁরা প্রকৃতির প্রতিটি ইঙ্গিতকে আত্মস্থ করেছেন। কোন গাছে দেরিতে ফুল ফোটা বা ঝর্ণার জল কমে যাওয়া তাঁদের কাছে আসন্ন খরা বা ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা।

পরিবেশ জ্ঞান ছাড়াও, এই সম্প্রদায় ৫১টি স্থানীয় গাছের ঔষধি গুণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস বা সাপের কামড়ের চিকিৎসাতেও তাঁরা গাছের ছাল, পাতা ও ফল ব্যবহার করেন। তাঁদের জীবনযাপন প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু সংগ্রহ করেন না তাঁরা, বনকে শোষণ না করে তার সঙ্গে মিলেমিশে বাঁচেন। আজ যখন বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি, তখন মহাদেব কোলিদের এই জীবনদর্শন এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

তাঁদের তরুণ প্রজন্মও র‍্যাপার মাহি জি-এর মতো শিল্পীদের মাধ্যমে বন সংরক্ষণ ও আদিবাসী অধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনই যে সুস্থ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি, তা এই উপজাতি বারবার প্রমাণ করে চলেছে।