ব্যুরো নিউজ, ২ আগষ্ট ২০২৬ : দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি, সংসদ অভিযানের দিনেই শুধু নয়, তার পরেও টানা ৬ দিন ধরে নিট আন্দোলনকারীদের একাংশ পাথর ছুড়েছেন। সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে আন্দোলন চলাকালীন কিছু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে পড়ুয়াদের মাঝে ঢুকে পড়েছিলেন। তারাই অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেন। পুলিশ বারবার সংযত থাকার বার্তা দিলেও বিক্ষোভকারীরা সংসদ সংলগ্ন কড়া নিরাপত্তা বলয়ের কাছে পাথর ছোড়েন এবং ব্যারিকেড ভাঙেন।
পুলিশের দাবি, সংসদ অভিযানের পর ২৫ জুলাই পর্যন্ত পাথর ছোড়া অব্যাহত ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত বা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চলে। দিল্লি পুলিশের নথি খতিয়ে দেখে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানিয়েছে, পাথর ছোড়া বা হিংসার ঘটনা কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। সংসদ ভবনের চারপাশে প্রায় ২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে রয়েছে রফি মার্গ ব্যারিকেড, গোল ডাকখানা, যন্তর মন্তর এবং কনট প্লেসের এলআইসি বিল্ডিং এলাকা। সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও খতিয়ান দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
নথি অনুযায়ী, ১১০টি ব্যারিকেড ভাঙচুর করা হয়েছে, খোয়া গিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে ১৭১টি দড়ি। এছাড়া ৩৫৫টি হেলমেট, ২৮৫টি বডি প্রোটেক্টর, ৫৪টি নিরাপত্তা ঢাল, ১০টি টর্চলাইট সহ বহু সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে বা চুরি গেছে। ২৯টি সরকারি গাড়ি, একটি ওয়াটার ট্যাঙ্কার এবং একটি ডিটিসি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিংসার ঘটনায় ২৪৪ জন পুলিশকর্মী এবং ২০৯ জন সাধারণ নাগরিক জখম হয়েছেন বলে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সংযম দেখিয়েছে বলেই বড় সংঘর্ষ এড়ানো গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।








