ব্যুরো নিউজ, ৭ জুন ২০২৬ঃ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এবং এশিয়ার বৃহত্তম ফুলের বাজার—মল্লিক ঘাট ফুল বাজার বর্তমানে একটি চরম প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
২০২৬ সালের জুন মাসের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বাজারের মূল আপডেট নিচে দেওয়া হলো:
🔴 সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান ও বর্তমান অবস্থা
অবকাঠামো ভেঙে ফেলা: ২০২৬ সালের ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন হাওড়া ব্রিজের নিচে থাকা মল্লিক ঘাট বা জগন্নাথ ঘাটের ঐতিহ্যবাহী ফুল বাজারের পুরনো ও জীর্ণ অস্থায়ী পরিকাঠামো প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে।
বিক্রেতাদের কর্মস্থলে ফেরা: ধ্বংসলীলার ঠিক পরের দিন থেকেই বিক্রেতারা খোলা আকাশের নিচে পুনরায় কাজে ফিরেছেন এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যবসা চালু রাখার চেষ্টা করছেন।
⚠️ তীব্র আবর্জনা ও সাফাই সংকট
পরিচালন সমিতির অভাব: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্বতন পরিচালন সমিতি ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে মল্লিক ঘাট বাজারটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সমিতির কার্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো আর্থিক তদারকি হচ্ছে না।
দুর্গন্ধ ও জঞ্জালের স্তূপ: গত বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে কোনো সাফাইকর্মী না আসায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছেন। ফুল ও পাতার বর্জ্য পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফুল চাষিরা ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ অ্যাপ এবং হর্টিকালচার দফতরে এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
📈 বাজারের দরদাম ও ব্যবসার হাল
চড়া ফুলের দাম: সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের কারণে বাজারে পদ্মফুলের চাহিদা এবং দাম মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে অন্যান্য বছর এই সময়ে একটি পদ্মফুল ১-২ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমান পরিস্থিতিতে মল্লিকঘাটে পাইকারি বাজারে তা প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শহরতলির খুচরো বাজারে এই দাম পিস প্রতি ২০ টাকা ছুঁয়েছে।
🏗️ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই উচ্ছেদ ও ভাঙচুর মূলত দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকীকরণের অংশ। কলকাতা কর্পোরেশন ও উদ্যান পালন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক ঘিঞ্জি বাজারের খোলনলচে বদলে ফেলে সেখানে একটি আধুনিক পাঁচ তলা ‘ফুল মল’ (Flower Mall) গড়ে তোলা হবে, যেখানে চাষিদের জন্য আধুনিক হিমঘরের সুবিধাও থাকবে ।







