ব্যুরো নিউজ, ২৬ জুন ২০২৬ : উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে এক কারখানায় ভয়াবহ শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ভালো চাকরি ও মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকদের নিয়ে এসে কার্যত বন্দি করে রাখা হত।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁদের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করানো হত। সামান্য খাবার, বিশেষত তুষের রুটি খেতে দেওয়া হত এবং প্রতিবাদ করলেই লোহার রড ও বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হত। পালানোর চেষ্টা রুখতে কারখানায় পিটবুল কুকুরও পাহারায় রাখা হত। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে রাজস্থানের যোধপুরের বাসিন্দা বিক্রম নামের এক শ্রমিকের পালিয়ে আসার পর। গত ২২ জুন তিনি কারখানার পাঁচিল টপকে তিতাওয়ী থানায় পুরো ঘটনা জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই কাগজের থালা-বাটি তৈরির কারখানা থেকে ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে, যার মধ্যে নাবালকও ছিল। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও ভাঙা হাড়ের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় কারখানার মালিক অঙ্কিত বালিয়ানের বাবা প্রদীপ বালিয়ান এবং সুপারভাইজার শিব ত্যাগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত অঙ্কিত এখনও পলাতক।
পুলিশের সন্দেহ, কয়েকজন শ্রমিক দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বন্দিদশায় ছিলেন। তদন্তকারীরা শ্রমিক পাচার ও বেআইনি আটকে রাখার এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন। অপুষ্টি ও অতিরিক্ত পরিশ্রমে কিছু শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে, যা তদন্তাধীন।








