অভিষেককে কাঠগড়ায় তুলে পদত্যাগ তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকীর

তৃণমূলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী পদত্যাগ করলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তাঁর।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ-বিক্ষোভের আবহে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকীর পদত্যাগকে ঘিরে। শনিবার, ৬ জুন তিনি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানান। তাঁর এই পদত্যাগের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

এক সাক্ষাৎকারে আজমল সিদ্দিকী সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমশ বেড়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, দলের মধ্যে কিছু বিষয় তাঁর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, যার ফলেই তিনি পদত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আজমল সিদ্দিকী জানান, হজ যাত্রা থেকে ফিরে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল। এই মুহূর্তে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি, বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন। বরং তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, শিল্প স্থাপন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।