পুরুলিয়ার আয়েশার বিশ্ব জয়, অর্থের অভাবে লন্ডনে যেতে পারলেন না পুরস্কার নিতে

পুরুলিয়ার আয়েশা ফাতিমা জন লক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র গ্লোবাল এসে প্রতিযোগিতায় বিশ্ব জয় করেছেন। অর্থের অভাবে লন্ডনে পুরস্কার নিতে যেতে পারেননি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: পুরুলিয়ার পারায় অবস্থিত ‘ফেলিক্স স্কুল অফ এডুকেশন’-এর নবম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা ফাতিমা বিশ্ব মঞ্চে এক অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করে রাজ্য তথা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ জন লক ইনস্টিটিউটের ‘জুনিয়র গ্লোবাল এসে’ প্রতিযোগিতার মনোবিজ্ঞান বিভাগে তিনি সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ১৮৩টি দেশ থেকে জমা পড়া লক্ষাধিক প্রবন্ধের মধ্যে আয়েশার লেখাটি সেরা ১৭.৫ শতাংশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা তাঁর মেধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আয়েশার প্রবন্ধের বিষয় ছিল, “মৃত্যুর পরে দেহ নিয়ে কী করা হবে, তা নিয়ে চিন্তা কিসের!” মাত্র এক সপ্তাহের প্রস্তুতিতে লেখা এই প্রবন্ধে তিনি মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব এবং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত বিভিন্ন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি প্রথা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর একাধিক সংস্কৃতিতে মৃত্যুর পরেও একটি জীবন রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়, যার প্রতিফলন বিভিন্ন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রথায় দেখা যায়। এই অসাধারণ সাফল্যের পর, আয়েশা ফাতিমাকে লন্ডনের মেফেয়ারের পার্ক লেনে অবস্থিত ‘লন্ডন হিলটন’-এ আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও গালা ডিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর পক্ষে লন্ডনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আয়েশার মা নিগার সুলতানা জানান, লন্ডন যাতায়াত করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তাঁদের মতো সাধারণ পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা অসম্ভব।

আয়েশার বাবা মোহাম্মদ রাজিউদ্দিন রঘুনাথপুর-২ ব্লকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যদিও লন্ডনে যেতে পারেননি, জন লক ইনস্টিটিউটের পাঠানো সার্টিফিকেট পেয়ে আয়েশা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই সাফল্যে ফেলিক্স স্কুল অফ এডুকেশনের শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা ঘোষ সহ গোটা স্কুল অত্যন্ত গর্বিত। এটি পুরুলিয়ার জন্য এক বিরাট সম্মান।