ব্যুরো নিউজ, ২৩ জুলাই ২০২৬ : রাজ্যজুড়ে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে রাজ্যের কোনও পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধান জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। এই ক্ষমতা কেবলমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের হাতেই থাকবে।
মুখ্যসচিব জানান, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে বিস্তর গরমিলের প্রমাণ মিলেছে, বিশেষত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) সময়কালে। পুলিশের কাছেও অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে এবং অনেক জায়গায় নকল শংসাপত্রও ধরা পড়েছে। এই অনিয়ম রুখতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই শংসাপত্র বিলিতে দুর্নীতি খুঁজতে রাজ্যজুড়ে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। কলকাতা, বিধাননগর, বীরভূম, হুগলি, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের রেজিস্টার ও নথিপত্র সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিবদ্ধ হওয়া সমস্ত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার মাধ্যমে ভুয়ো শংসাপত্র বাতিল করা হবে। তবে মুখ্যসচিবের আশ্বাস, সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; এই যাচাই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্যই। ভবিষ্যতে কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাজে বেনিয়ম ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।








