ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা এখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদের দলবদল ঘিরে যখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা, তখন দেবের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতুহল। অনেকেই এটিকে জুলিয়াস সিজারের নাটকের ‘ব্রুটাস তুমিও!’ সংলাপের সঙ্গে তুলনা করছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার দিল্লিতে তৃণমূলের ১২ জন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও, দেব সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি বর্তমানে দিল্লিতেই এক বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করছেন বলে জানা গিয়েছে, যা তাঁর গোপন ডেরা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মেগা দলবদল পর্বে দেব হয়তো মূল চরিত্র নন, তবে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্র।
বিজেপি শিবিরের দাবি, দেব ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। বাকি সাংসদদের ভিড়ে না গিয়ে তিনি সম্ভবত পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে দেখা করবেন। এই গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়া এবং টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে সমস্যা নিয়ে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মান ভাঙিয়েছিলেন।
রাজ্য সরকারের তরফে আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের ক্ষমতা হারানোর পর এবং স্বরূপ বিশ্বাস জেলে যাওয়ার পর দেবের মনের ভেতরের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্কও এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেবের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।







