নবমীর সন্ধিপুজোর ১ কোটি পদ্মের চাহিদা মেটালো বাংলার পদ্মচাষিরা, দামও নাগালের মধ্যেই

দুর্গাপূজা ২০২৬-এ সন্ধিপুজোর ১ কোটি পদ্মের চাহিদা মেটালো বাংলা। ওড়িশা-বেঙ্গালুরুকে পিছনে ফেলে এবার দামও নাগালের মধ্যে, ১৬-২০ টাকায় মিলছে পদ্ম।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: নবমীর প্রারম্ভে সন্ধিপুজোয় মা দুর্গার আরাধনার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল সংখ্যক পদ্মফুলের চাহিদা মেটাতে এবার আর ওড়িশা বা বেঙ্গালুরুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়নি পশ্চিমবঙ্গকে।

রাজ্যের ফুলচাষিরাই এক কোটি গোলাপি পদ্মের জোগান দিয়েছেন, যা পুজো উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। শুধু তাই নয়, পদ্মের দামও এবার ছিল সাধারণের নাগালের মধ্যে। কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজার থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া কিংবা পুরুলিয়া, সর্বত্রই ১৬ থেকে ২০ টাকায় মিলছে এক একটি পদ্ম। যেখানে বিগত বছরগুলিতে সপ্তমীর রাত থেকে একটি পদ্মের দাম ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যেত, সেখানে এই বছর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন সকলে।

গোটা বাংলার ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক এই প্রসঙ্গে বলেন, “এবার সেভাবে বন্যা হয়নি, যা পদ্মচাষের পক্ষে অনুকূল ছিল। এছাড়াও, যেসব এলাকায় সাধারণত জল জমে থাকার কারণে আমন ধান চাষ সম্ভব হয় না, সেখানকার চাষিরা এবার পদ্ম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে বাজারে যেমন গোলাপি পদ্মের বিপুল জোগান দেখা যাচ্ছে, তেমনই সাধারণ পদ্মও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।”

অন্যান্য বছরগুলিতে দুর্গাপূজার সময় পদ্ম জোগাড় করতে পুজো কমিটি থেকে শুরু করে গৃহস্থদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হত। পুজোর আগে ভারী বৃষ্টির কারণে ফুলের ফলন মার খেত, যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। কিন্তু এই বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং চাষিদের নতুন কৌশল অবলম্বন করায় রাজ্যের এই বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েছে। এটি রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।