উত্তর ২৪ পরগনা: বিস্ফোরক মজুত থাকার সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একটি মোটরসাইকেল শোরুম ও কন্টেনার গাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চালাল বেঙ্গল এসটিএফ, এনএসজি এবং এনআইএ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রথমে অভিযানে নামে বেঙ্গল এসটিএফ। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এনএসজি ও এনআইএ-র আধিকারিকরা। ভোররাত পর্যন্ত চলা এই যৌথ অভিযানে বড় কোনও শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার না হলেও বেশ কিছু সন্দেহজনক পদার্থ মিলেছে বলে সূত্রের খবর।
তল্লাশি চলাকালীন এক কেজির বেশি লোহার স্প্লিন্টার এবং অল্প পরিমাণে ডাস্ট অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পদার্থগুলি সাধারণত বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। বড় কোনও বিস্ফোরক না মেলায় তল্লাশি শেষে এনএসজি ও এনআইএ-র দল ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
অন্যদিকে, দত্তপুকুর থানার পুলিশ শোরুম ও গাড়ির মালিক রবিউল ইসলাম এবং মইদুল ইসলাম নামে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে মেকানিকের কাজ ছেড়ে তাঁরা গাড়ির শোরুমের ব্যবসা শুরু করেন। দত্তপুকুর-সহ মোট চারটি শোরুম রয়েছে তাঁদের।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া পদার্থ তেমন শক্তিশালী নয়। অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে অভিযোগ উঠলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি, ব্যবসার কাজে তাঁদের বাংলাদেশে যাতায়াত, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তার কারণে তল্লাশি চলাকালীন দত্তপুকুর ফাঁড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা হয় একাধিক রাস্তা। পরে অভিযান শেষ হলে ভোররাতে এনএসজি ও এনআইএ-র দল এলাকা ছাড়ে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস এবং এর পিছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।








