যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ: প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলল বুলডোজার, লাঠিচার্জ ও আটক সৃজন ভট্টাচার্য

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদ অভিযান, প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলল বুলডোজার। পুলিশি লাঠিচার্জে আটক সৃজন ভট্টাচার্য সহ একাধিক। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বেআইনি, দাবি বিক্ষোভকারীদের।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ যাদবপুর স্টেশন চত্বরে গভীর রাতে চলল বুলডোজার। প্রবল প্রতিবাদ সত্ত্বেও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাল পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই সিপিএম ও কংগ্রেসের কর্মীরা উচ্ছেদ আটকাতে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিলেন। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য, ঊষসী চক্রবর্তী এবং কংগ্রেসের সৌরভ প্রসাদ সহ অনেকেই বুলডোজারের সামনে শুয়ে বা উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু রাত বারোটার কাছাকাছি বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড বসিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অবৈধ দোকান ও নির্মাণ গুড়িয়ে দেয়। এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং সৃজন ভট্টাচার্য সহ আরও দুজনকে আটক করে বলে জানা গেছে। সৃজন ভট্টাচার্য উচ্ছেদ শুরুর আগে জানান, হকারদের বসা বেআইনি হলেও পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করাও বেআইনি। ১৯৮৮ সালের আদালতের রায় অনুযায়ী, বাণিজ্যিক প্লট বা পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা যায় না। রেল কর্তৃপক্ষ ২১ দিনের সময় চেয়েছিল সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার জন্য, কিন্তু সেই কথার খেলাপ করে উচ্ছেদ চালানো হয়েছে।

ঊষসী চক্রবর্তীও একই কথা বলেন, যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এই উচ্ছেদ বেআইনি। তিনি মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার দাবি জানান। এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরেও রেল কর্তৃপক্ষ বেআইনি নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। যাদবপুরের এই ঘটনা আবারও হকারদের ভবিষ্যৎ এবং উচ্ছেদ নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল।