২১৫ বছরের রীতি: ঘাটালের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে শোল মাছ পোড়া ছাড়া হয় না মা কালীর ভোগ

ঘাটালের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ২১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা কালীপুজো এবার ২১৫ বছরে পদার্পণ করল। শোল মাছ পোড়া ভোগ আজও এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার খড়ার শহরের পানপাড়ায় বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ২১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা কালীপুজো এবার ২১৫ বছরে পদার্পণ করল। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলালেও পুজোর প্রাচীন রীতিনীতি আজও ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, একসময় কয়েকজন বন্ধু মিলে খেলার ছলে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে চাল-ডাল সংগ্রহ করে এবং মাটির প্রতিমা তৈরি করে শুরু হয়েছিল পুজো। সেই ছোট্ট উদ্যোগই ধীরে ধীরে ঐতিহ্যে পরিণত হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজো আজও নিষ্ঠার সঙ্গে করে আসছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার।

এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল শোল মাছ পোড়া ভোগ। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, একবার পুজো শেষে একটি শোল মাছ পোড়া হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবী স্বপ্নে প্রতিবছর তাঁকে শোল মাছ পোড়া ভোগ নিবেদনের নির্দেশ দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই আজও এই বিশেষ ভোগ নিবেদনের প্রথা চলে আসছে। বাড়ির ঠাকুরদালানে প্রতিমা তৈরি করে পুজোর আয়োজন করা হয়। দেবীকে নিবেদন করা হয় খিচুড়ি, এঁচোড়ের তরকারি, বিভিন্ন ধরনের ফল এবং বিশেষ শোল মাছ পোড়া।

পুজোর এই নিজস্ব রীতিই বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির কালীপুজোকে এক স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।