ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুন ২০২৬ঃ শালিক পাখির ছানাদের বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল এক কিশোরের। বজ্রাঘাতে প্রাণ হারাল ১৫ বছরের মানস ব্যাপারী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কল্যাণী থানার শোকুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের লিচুতলা এলাকায়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়, স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবার ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানস ব্যাপারী ছিল অত্যন্ত প্রকৃতিপ্রেমী। বাড়ির অদূরেই একটি শালিক পাখির বাসায় বেশ কিছু ছানা হয়েছিল।
কিশোর মানস প্রতিদিন তাদের খেয়াল রাখত, বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত সে উপভোগ করত। সোমবার দুপুরে আকাশ কালো করে মেঘ ঘনিয়ে আসে। শুরু হয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি। শালিকের ছানাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় মানস। বাবা দীপক ব্যাপারী তাকে বারণ করলেও, ছানাদের রক্ষা করতে সে ছুটে যায়। কিন্তু কে জানত, এই ছুটে যাওয়াই তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে! ঝড়বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ বজ্রাঘাতে লুটিয়ে পড়ে মানস। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানসের বাবা দীপক ব্যাপারী পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন, কিন্তু কয়েক মাস আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। অভাবের সংসারে মানস ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ভরসা। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাবা-মা দুজনেই বাকরুদ্ধ, তাদের কান্না থামছে না। এলাকার মানুষও এই ঘটনায় স্তম্ভিত। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাই যে এভাবে একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।







