ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: মহাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মভূমি হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে সম্পন্ন হল ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পাঁচ বছরের অদ্রিজা চক্রবর্তীকে ‘উমা কুমারী’ রূপে আরাধনা করা হয়।
কোতুলপুর থানার অশ্বিনী গ্রামের এই কন্যাকে বেনারসি শাড়ি, গয়না ও রজনীগন্ধার মালায় সুসজ্জিত করে দেবীজ্ঞানে পুজো করেন মঠের সন্ন্যাসীরা। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই মঠ চত্বরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মভূমি হওয়ায় কামারপুকুরের দুর্গাপুজোর এক বিশেষ আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য রয়েছে। ১৯৫১ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে দুর্গোৎসবের প্রচলন শুরু হয়। এখানকার অন্যতম বিশেষত্ব হল, দুর্গামণ্ডপেই প্রতিমা নির্মাণ করা হয় এবং বেলুড় মঠের শিল্পীই এখানে এসে প্রতিমা গড়েন, ফলে দুই মঠের প্রতিমার মধ্যে অপূর্ব সাদৃশ্য বজায় থাকে।
প্রতি বছর বেলুড় মঠ থেকেও মহারাজরা কামারপুকুরে আসেন। মঠের স্বামী লোকোত্তরানন্দ মহারাজ জানান, মহাষ্টমীর পুজোয় সন্ন্যাসী তন্ত্রধারকের ভূমিকা পালন করেন এবং ব্রহ্মচারী মহারাজ পুজো সম্পন্ন করেন। এক বছর থেকে ষোলো বছর বয়সি কন্যাদের কুমারী পুজো করার বিধান থাকলেও, কামারপুকুরে পাঁচ বছর বয়সি কন্যাকে ‘উমা কুমারী’ স্বরূপে পুজো করা হয়।
এই পুজো উপলক্ষে আমেরিকা, বেঙ্গালুরু ও তামিলনাড়ু সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত কামারপুকুরে আসেন। প্রায় আট হাজার মানুষকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে অষ্টমীতে। এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি কামারপুকুর কলেজের এনসিসি পড়ুয়া সহ প্রায় ১১০০ স্বেচ্ছাসেবক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে সন্ধিপুজোয় চামুণ্ডা দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে মহাষ্টমীর প্রধান অনুষ্ঠানগুলোর সমাপ্তি ঘটে।







