ব্যুরো নিউজ, ২১ জুলাই ২০২৬ : ২০২৬ সালের ২১শে জুলাই, এক অভিনব শহীদ দিবস দেখল বাংলা। এবার শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির এবং কংগ্রেসও পৃথক মঞ্চে এই দিনটি পালন করছে। কালীঘাটের শহীদ শিবিরের মঞ্চ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণের শুরুতেই আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর তিনি সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ ভাঙা হয়েছে, মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ বাইক বাহিনী পাঠিয়ে জনসভাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “বিজেপি তারকাটা পার্টি। আমার বাড়িতেও বিজেপির কর্মীরা আটকানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।” পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদিও পুলিশের দোষ না দিয়ে তৎকালীন সরকারের দিকেই আঙুল তোলেন। দলত্যাগীদের সরাসরি নিশানা করে মমতা বলেন, “দল না ভাঙিয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমার হাতে অনেক লোক আছে। সবাই চলে গেলেও আমার কোনও আক্ষেপ নেই। আমার হাতে ছাত্র-যুব সব রেডি আছে।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা তো বালিশের মধ্যে লুকিয়ে থাকেন ইঁদুরের মতো। আর আমরা সুন্দরবনের বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করি। এটাই আপনাদের সঙ্গে আমাদের তফাৎ।”
এত অল্প সময়েও ভালোবাসার টানে উপস্থিত হওয়া কর্মী-সমর্থকদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিরোধীদের কটাক্ষ করে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। আর ফেরত নেব না।” বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও এদিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নিশানা করতে ছাড়েননি। এই সমাবেশ থেকে মমতা আগামী দিনে জেলায় জেলায় বের হওয়ার ঘোষণাও করেন।








